যোগাযোগ:

Mohammad  Abdul  Malek

E-mail: abdulmalek1972p@gmail.com

Mob- 01875856924




পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দী উপজেলা

The history of the Rajbari …

রাজবাড়ী জেলার ইতিহাস
বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা
বিভাগের অর্ন্তগত রাজবাড়ী একটি
অন্যতম জেলা । এ জেলার আয়তন ১২০৪
বর্গ কিলোমিটার। পৃথিবীর
২৩০৩৫′-২৩০৫৫′ উত্তর অক্ষাংশ এবং
৮৯০০৯′-৮৯০৫৫′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে এ
জেলার অবস্থান।
রাজবাড়ী জেলার উত্তরে পাবনা,
দক্ষিণে ফরিদপুর ও মাগুরা, পূর্বে
মানিকগঞ্জ, পশ্চিমে কুষ্টিয়া এবং
ঝিনাইদহ জেলা। নদী বিধৌত পদ্মার
পলি মাটি দিয়ে এই জেলার
অধিকাংশ ভূমি গঠিত। এ জেলার
প্রধান নদীগুলো হল, পদ্মা, গড়াই, হড়াই ও
চন্দনা। এ জেলার বার্ষিক সর্বোচ্চ গড়
তাপমাত্রা ৩৫.৮০ সেলসিয়াস এবং
সর্বনিম্ন ১২.৬০ সেলসিয়াস। বার্ষিক
বৃষ্টিপাত ২১০৫ মিমি। বাতাসের
আর্দ্রতা ৭৫%।
জেলার নামকরণের ইতিহাস
কোন এক রাজার বাড়ীকে কেন্দ্র
করেই এ জেলার নামকরন হয় রাজবাড়ী।
তবে কখন থেকে বা কোন রাজার
নামানুসারে এ জেলার নামকরন করা
হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক
কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। যতটুকু পাওয়া
গেছে তাতেও রয়েছে নানা সংশয়।
বাংলার রেল ভ্রমণ পুসত্মকের
(এল.এন.মিশ্র প্রকাশিত ইস্ট বেঙ্গল
রেলওয়ে ক্যালকাটা ১৯৩৫) ১০৯ পৃষ্ঠায়
রাজবাড়ী সম্বন্ধে যে তথ্য পাওয়া
যায় তাতে দেখা যায় ১৬৬৬
খ্রিস্টাব্দে নবাব শায়েস্তাখান
ঢাকায় সুবাদার নিযুক্ত হয়ে আসেন। এই
সময় এই অঞ্চলে পর্তুগীজ জলদস্যুদের
দমনের জন্যে তিনি সংগ্রাম শাহ্কে
নাওয়ারা প্রধান করে পাঠান। তিনি
রাজবাড়ীর বানিবহতে স্থায়ীভাবে
বসবাস করতেন এবং লালগোলা নামক
স্থানে দুর্গ নির্মাণ করেন। এই
লালগোলা দুর্গই রাজবাড়ীর কয়েক
কিলোমিটার উত্তরে বর্তমান
লালগোলা গ্রাম। সংগ্রাম শাহ্ ও তার
পরিবার পরবর্তীতে বানিবহের
নাওয়ারা চৌধুরী হিসাবে পরিচিত
হয়ে ওঠেন। লোকমুখে প্রচলিত এবং
এল.এন.মিশ্র উক্ত পুস্তকে উল্লেখ করা
হয়েছে রাজা সংগ্রাম শাহের রাজ
কারবার বা রাজকাচারী ও প্রধান
নিয়ন্ত্রনকারী অফিস বর্তমান
রাজবাড়ী এলাকাকে কাগজে কলমে
রাজবাড়ী লিখতেন। ঐ পুস্তকের
শেষের পাতায় রেলওয়ে স্টেশন
হিসেবে রাজবাড়ী নামটি লিখিত
পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক আনন্দনাথ
রায় ফরিদপুরের ইতিহাস পুস্তকে
বানিবহের বর্ণনায় লিখেছেন
নাওয়ারা চৌধুরীগণ পাঁচথুপি থেকে
প্রায় ৩০০ বছর পূর্বে বানিবহ এসে বসবাস
শুরু করেন। বানিবহ তখন জনাকীর্ণ স্থান।
বিদ্যাবাগিশ পাড়া, আচার্য পাড়া,
ভট্টাচার্য পাড়া, শেনহাটিপাড়া,
বসুপাড়া, বেনেপাড়া, নুনেপাড়া
নিয়ে ছিল বানিবহ এলাকা।
নাওয়ারা চৌধুরীগণের বাড়ী
স্বদেশীগণের নিকট রাজবাড়ী নামে
অভিহিত ছিল।
এছাড়াও মতান্তরে এ জেলার এক
রাজা সূর্য কুমারের নামানুসারে
রাজবাড়ীর নামকরণ হয়। রাজা সূর্য
কুমারের পিতামহ প্রভুরাম নবাব
সিরাজ-উদ-দৌলার রাজকর্মচারী
থাকাকালীন কোন কারণে
ইংরেজদের বিরাগভাজন হলে
পলাশীর যুদ্ধের পর লক্ষীকোল এসে
আত্মগোপন করেন। পরে তার পুত্র
দ্বিগেন্দ্র প্রসাদ এ অঞ্চলে জমিদারী
গড়ে তোলেন। তারই পুত্র রাজা সুর্য
কুমার ১৮৮৫ সালে জনহিতকর কাজের
জন্য রাজা উপাধি প্রাপ্ত হন।
অন্যদিকে রাজবাড়ী রেল স্টেশন
স্থাপিত হয় ১৮৯০ সালে। ঠিক একই সময়ে
এ রেল স্টেশন এর নামকরণ করা হয়
রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশন। বিভিন্ন
তথ্য অনুযায়ী জানা যায় রাজবাড়ী
রেল স্টেশন এর নামকরণ রাজা সূর্য
কুমারের নামানুসারে করার দাবি
তোলা হলে বানিবহের জমিদারগণ
প্রবল আপত্তি তোলেন। উল্লেখ্য
বর্তমানে যে স্থানটিতে রাজবাড়ী
রেল স্টেশন অবস্থিত উক্ত জমির
মালিকানা ছিল বানিবহের
জমিদারদের। তাদের প্রতিবাদের
কারনেই স্টেশনের নাম রাজবাড়ীই
থেকে যায়। এই সকল বিশ্লেষণ থেকে
ধারণা করা হয় রাজবাড়ী নামটি বহু
পূর্ব থেকেই প্রচলিত ছিল। এলাকার
নাওয়ারা প্রধান, জমিদার,
প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তিগণ রাজা বলে
অভিহিত হতেন। তবে রাজা সূর্য কুমার ও
তার পূর্ব পুরুষগণের লক্ষীকোলের
বাড়ীটি লোকমুখে রাজার বাড়ী
বলে সমাধিক পরিচিত ছিল। এভাবেই
চলে আসে আজকের এই সমৃদ্ধ জেলাটির
নাম।
জেলা গঠনের প্রেক্ষাপটঃ
বর্তমান রাজবাড়ী জেলা বিভিন্ন সময়
বিভিন্ন জেলার অমত্মর্ভূক্ত ছিল। ১৭৬৫
সালে ইংরেজরা বাংলা, বিহার ও
উড়িষ্যা দেওয়ানী লাভের পর উত্তর
পশ্চিম ফরিদপুর (বর্তমান রাজবাড়ী
জেলার কিয়দংশ) অঞ্চল রাজশাহীর
জমিদারীর অমত্মর্ভূক্ত ছিল। নাটোর
রাজার জমিদারী চিহ্ন হিসেবে
রাজবাড়ী জেলার বেলগাছিতে
রয়েছে সানমঞ্চ, দোলমঞ্চ।
পরবর্তীতে এটি এক সময় যশোর জেলার
অংশ ছিল। ১৮০৭ সালে ঢাকা
জালালপুরের হেড কোয়ার্টার
ফরিদপুরে স্থানামত্মর করা হয় এবং
পাংশা থানা ফরিদপুরের অমত্মর্ভূক্ত
হয়। ১৮১১ সালে ফরিদপুর জেলা সৃষ্টি
হলে রাজবাড়ীকে এর অমত্মর্ভূক্ত করা
হয়। এছাড়াও রাজবাড়ী জেলার
বর্তমান উপজেলাগুলি অতীতে
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জেলার
অমত্মর্ভূক্ত ছিল। পাংশা থানা এক সময়
পাবনা জেলার অংশ ছিল। ১৮৫৯
সালে পাংশা ও বালিয়াকান্দি
নবগঠিত কুমারখালী মহকুমার অধীনে
নেয়া হয়। ১৮৭১ সালে গোয়ালন্দ
মহকুমা গঠিত হলে পাংশা ও
রাজবাড়ী এই নতুন মহকুমার সঙ্গে যুক্ত হয়
এবং রাজবাড়ীতে সদর দফতর স্থাপিত
হয়।
১৯৮৩ সালে সরকার প্রশাসনিক
বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রতিটি
থানাকে মান উন্নীত থানায়
রূপামত্মরিত করলে রাজবাড়ীকে মান
উন্নীত থানা ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৩
সালের ১৮ই জুলাই থেকে সরকার
অধ্যাদেশ জারী করে সকল মান উন্নীত
থানাকে উপজেলায় রূপামত্মরিত করার
ফলে রাজবাড়ী উপজেলা হয়। অবশেষে
১৯৮৪ সালের ১ মার্চ সকল মহকুমা জেলা
হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সে থেকে
রাজবাড়ী জেলায় রূপামত্মরিত হয়।
উপজেলা ও ইউনিয়ন সমুহঃ
রাজবাড়ী জেলায় ৫ টি উপজেলার
অধিনে সর্বমোট ৪২ টি ইউনিয়ন রয়েছে।
এছাড়াও রয়েছে ৪ টি থানা। এ
জেলায় উপজেলাগুলো হল, রাজবাড়ী
সদর, গোয়ালন্দ, পাংশা, কালুখালি ও
বালিয়াকান্দি।
এর মধ্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলায়
রয়েছে ১৪ টি ইউনিয়রন যথাঃ
মিজানপুর, বরাট, পাঁচুরিয়া,
শহিদওহাবপুর, সুলতানপুর, রামকান্তপুর,
মূলঘর, খানগঞ্জ, খানখানাপুর, চন্দনী,
বানিবহ, দাদশী, বসন্তপুর ও আলীপুর
ইউনিয়ন।
গোয়ালন্দ উপজেলায় রয়েছে ৪ টি
ইউনিয়ন যথাঃ দৌলতদিয়া, দেবগ্রাম,
ছোটভাকলা ও উজানচর।
পাংশা উপজেলায় রয়েছে ১০ টি
ইউনিয়ন যথাঃ বাহাদুরপুর, হাবাসপুর,
যশাই, মাছপাড়া, বাবুপাড়া, মৌরাট,
কলিমহর, শরিষা, কসবামাজাইল ও
পাট্টা ইউনিয়ন।
কালুখালী উপজেলায় রয়েছে ৭ টি
ইউনিয়ন যথাঃ সাওরাইল,
বোয়ালিয়া, কালিকাপুর, মৃগী,
মাজবাড়ী, রতনদিয়া ও মদাপুর ইউনিয়ন।
বালিয়াকান্দি উপজেলায় রয়েছে ৭
টি ইউনিয়ন যথাঃ ইসলামপুর, নারুয়া,
নবাবপুর, বহরপুর, জংগল, জামালপুর ও
বালিয়াকান্দি।




এক নজরে পাংশা উপজেলা

সাধারণ তথ্য

 

জেলা

রাজবাড়ী

উপজেলা

পাংশা

সীমানা

উত্তরে পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলা, পূর্বে

কালুখালী উপজেলা, দক্ষিণে বালিয়াকান্দি উপজেলা এবং পশ্চিমে কুস্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলা।

জেলা সদর হতে দূরত্ব

২৫কি:মি:

আয়তন

২৫১.৩৭বর্গ কিলোমিটার

জনসংখ্যা

২,৪১,০৬৭  জন (প্রায়)

পুরুষ

১,১৯,৭০৯  জন (প্রায়)

মহিলা

১,২১,৩৫৮জন (প্রায়)

লোক সংখ্যার ঘনত্ব

৯৬৩.০৭(প্রতি বর্গ কিলোমিটারে)

মোট ভোটার সংখ্যা

১,৫২,৪০১জন

পুরুষভোটার সংখ্যা

৭৬,১৬৯জন

মহিলা ভোটার সংখ্যা

৭৬,২৪১জন

বাৎসরিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার

১.০৮.%

মোট পরিবার(খানা)

  ৫৬,৩১৩টি

নির্বাচনী এলাকা

  ২১০ রাজবাড়ী-২ (পাংশা)

গ্রাম

  ২১৩ টি

মৌজা

  ১৯৮টি

ইউনিয়ন

  ১০  টি

পৌরসভা

  ০১ টি

এতিমখানা

(বে-সরকারী)

  ৬টি

মসজিদ

  ২৬৩টি

মন্দির

  ৭২টি

নদ-নদী

  ৩টি (পদ্মা , চন্দনা, গড়াই নদী  )

হাওড়/বিল

  ২টি(সিরাজপুর হাওড়,কাজিয়াল গাং)

হাট-বাজার

  ১২টি

ব্যাংক শাখা

  ১৪টি (সোনালী, রূপালী, কৃষি,অগ্রনী,জনতা, পূবালী)

পোস্ট অফিস/সাব পোঃ অফিস

  ১টি

টেলিফোন এক্সচেঞ্জ

  ০১ টি

 

 

কৃষি সংক্রান্ত তথ্য

 

মোট জমির পরিমাণ

  ৬১,৮৫৩ একর

নীট ফসলী জমি

  ৪৪,৭০০ একর

মোট ফসলী জমি

  ৯৬,৫০০ একর

এক ফসলী জমি

  ৪,৩০০ একর

দুই ফসলী জমি

  ২৯,০০০ একর

তিন ফসলী জমি

  ১১,৪০০ একর

গভীর নলকূপ

  ৪৩টি

অ-গভীর নলকূপ

  ৪৫০০ টি

শক্তি চালিত পাম্প

  ২৪ টি

ব্লক সংখ্যা

  ২০টি

বাৎসরিক খাদ্য চাহিদা

  ৪৮৫০ মেঃ টন

নলকূপের সংখ্যা

  ২৯৫০ টি

 

শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্য

 

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

  ৫৭টি

বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

  ৫৭টি

জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়

  ৬টি

উচ্চ বিদ্যালয়(সহশিক্ষা )

  ৩৪টি

উচ্চ বিদ্যালয়(বালিকা)

  ৪টি

দাখিল মাদ্রাসা

  ১২টি

আলিম মাদ্রাসা

  ৭টি

ফাজিল মাদ্রাসা

  ৬টি

কলেজ(সহপাঠ)

  ৯টি

কলেজ(বালিকা)

  ২টি

শিক্ষার হার

  ৪০.০১%
 

পুরুষ

৫৩.৫৯ %
 

মহিলা

৩৬.১৯ %

 

স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

  ০১ টি

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র

  ৪টি

বেডের সংখ্যা

  ৫০ টি

ডাক্তারের মঞ্জুরীকৃত পদ সংখ্যা

  ৩০টি

কর্মরত ডাক্তারের সংখ্যা

  ইউএইচসি -০১  ইউনিয়ন পর্যায়ে -০৪

ইউএইচএফপিও ১টি মোট= ০৬টি

সিনিয়র নার্স সংখ্যা

  ১৪জন। কর্মরত=১৪জন

 

ভূমি ও রাজস্ব সংক্রান্ত তথ্য

 

মৌজা

  ১৯৮টি

ইউনিয়ন ভূমি অফিস

  ৯টি

পৌর ভূমি অফিস

  ০১ টি

মোট খাস জমি

  ৩২০৬.৭০একর

কৃষি

  ৪২২৪.৪৫৯৮একর

অকৃষি

  ৫৪২.০৬২৬একর

বন্দোবস্তযোগ্য কৃষি

  ৬৭৯.২৫৬একর (কৃষি)

বাৎসরিক ভূমি উন্নয়ন কর(দাবী)

  সাধারণ=৬,৬৬,৭০৩/-
সংস্থা = ৬,৪৪,৩৪৬/-

বাৎসরিক ভূমি উন্নয়ন কর(আদায়)

  সাধারণ=১৯,৯০,৩০৬/-  ফেব্রুয়ারী/১২
সংস্থা = ৩,৭৪,৩০৭/-  ফেব্রুয়ারী/১২

 

যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য

 

পাকা রাস্তা

  ২১৬.০০ কিঃমিঃ

অর্ধ পাকা রাস্তা

  ২০.০০ কিঃমিঃ

কাঁচা রাস্তা

  ৬৯৪.০০কিঃমিঃ

ব্রীজ/কালভার্টের সংখ্যা

  ১৯১টি

নদীর সংখ্যা

  ৪টি

রেলপথ

  ১৫ কিলোমিটার

 

পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত তথ্য

 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র

  ১টি

পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক

  ৯টি

এম.সি.এইচ. ইউনিট

  ০টি

সক্ষম দম্পতির সংখ্যা

  ৮৪,৯১৩জন

 

মৎস্য সংক্রান্ত তথ্য

 

পুকুরের সংখ্যা

  ৪৬৪১টি

মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার সরকারী

  ১টি (মিনি হ্যাচারী)

মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার বে-সরকারী

  ০টি

বাৎসরিক মৎস্য চাহিদা

  ২০,১১৫মেঃ টন

বাৎসরিক মৎস্য উৎপাদন

  ১১,১৬০মেঃ টন

 

প্রাণি সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য

 

উপজেলা পশু চিকিৎসা কেন্দ্র

  ০১ টি

পশু ডাক্তারের সংখ্যা

  ২জন

উপ-কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র

  ১টি

পয়েন্টের সংখ্যা

  ১৮টি

উন্নত মুরগীর খামারের সংখ্যা

  ৪১৫টি
লেয়ার ৮০০ মুরগীর উর্ধ্বে· ১০-৪৯ টি মুরগী আছে, এরূপ খামার   ১২  টি

গবাদির পশুর খামার

  ৫৬২টি

 মুরগীর খামার

  ৩২৮টি

 

সমবায় সংক্রান্ত তথ্য

 

কেন্দ্রিয় সমবায় সমিতি লিঃ

  ১টি

ইউনিয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ

  ১৪টি

বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ

  ৫৮টি

মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিঃ

  ০৫টি

আশ্রয়ন/আবাসন বহুমুখী সমবায় সমিতি

  ০২টি

কৃষক সমবায় সমিতি লিঃ

  ১২৮টি

পুরুষ বিত্তহীন সমবায় সমিতি লিঃ

  ০৮টি

মহিলা বিত্তহীন সমবায় সমিতি লিঃ

  ০৩টি

কৃষিসমবায় সমিতি লিঃ

  ২৩টি

 




রাজবাড়ী জেলার দর্শনীয় স্থান /পর্যটন অঞ্চল সমূহ কোথায়

১। শাহ পাহলোয়ানের মাজারঃ রাজবাড়ী অঞ্চলে ষোড়শ শতকে ধর্ম প্রচারের জন্য আগমন করেন শাহ পাহলোয়ান এর মত আউলিয়ারা। ১৪৮০ হতে ১৫১০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে শাহ পাহলোয়ান বোগদাদ শরীফ পরিত্যাগ করে ফরিদপুর অঞ্চলে এসে চন্দনা নদীর তীরে বাসস্থান নির্মাণ করে উপাসনা করছিলেন। কথিত আছে শাহ পাহলোয়ান মৃত্যুর সময় শিষ্যদের তার কবর পূর্ব-পশ্চিম লম্বা-লম্বি দিতে বলেছিলেন। কিন্তু তার শিষ্যবর্গ প্রচলিত বিধানমতে যথানিয়মে তাকে কবরস্থ করেন। কিন্তু সকালে দেখা গেল তার কবর ঘুরে পূর্ব-পশ্চিম লম্বা-লম্বি হয়ে গিয়েছে। শাহ পাহলোয়ানই রাজবাড়ী অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের ভিত রচনা করে গেছেন।

২। দাদ্শী মাজার শরীফঃ রাজবাড়ী শহর থেকে রেল লাইন ধরে পূর্বদিকে ১ কিঃমিঃ দূরে দাদ্শী খোদাই দরগা। ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে কামাল শাহ নামক এক আউলিয়া ষোড়শ শতকে এতদঞ্চলে আগমন করেন।। ১৮৯০ সালে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত রাজবাড়ী রেল লাইন স্থাপনের সময় জঙ্গলের মধ্যে দরগাটির সন্ধান মিলে। সেই হতে দরগাটি এ অঞ্চলের মানুষ খোদাই দরগা নামে কামাল শাহ আউলিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছেন।

৩। জামাই পাগলের মাজারঃ রাজবাড়ী শহরের ৬ কিঃমিঃ দক্ষিণ-পূর্বে আহলাদিপুর মোড়ে জামাই পাগলের স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে একটি শেড নির্মিত হয়। ১৯৬০ সালের দিকে জামাই পাগল নামে এক ব্যক্তিকে সেখানে নেংটি পরা অবস্থায় শেওড়া গাছের নীচে মজ্জুম অবস্থায় দেখা যেত। তাকে কেহ প্রশ্ন করলে তিনি একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করতেন। তার মৃত্যুর পর উক্ত স্থানে জামাই পাগলের মাজার নামে একটি মাজার গড়ে উঠেছে। লোকশ্রুতি আছে জামাই পাগল এক বোবা মেয়েকে পানিতে চেপে ধরে ছেড়ে দিলে সে কথা বলতে শুরু করে।

৪। নলিয়া জোড় বাংলা মন্দিরঃ বালিয়াকান্দি থানার নলিয়া গ্রামে একটি জোড় বাংলা মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এর গঠন বিচিত্র। এ মন্দিরটি ১৭০০ সালে তৈরী বলে পন্ডিতগণ মনে করেন।

৫। সমাধিনগর মঠঃ ( অনাদি আশ্রম)ঃ বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নে ১৯৪০ সালে স্বামী সমাধী প্রকাশরণ্য এ মঠটি নির্মাণ করেন যার উচ্চতা ৭০ ফুট (গম্বুজসহ), দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ ফুট এবং প্রস্থ ৫০ ফুট। এটি অনাদি আশ্রম বলে পরিচিত। স্বামীজী এ আশ্রমের মাধ্যমে ঐ এলাকার মানুষকে আলোর পথে অগ্রায়ণ করে গেছেন।

। রথখোলা সানমঞ্চঃ রাজবাড়ী শহর থেকে দুই স্টেশন পশ্চিমে প্রাচীন হড়াই নদীর তীরে বর্তমান পদ্মার কাছাকাছি বেলগাছি একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। বেলগাছির অদূরে হাড়োয়ায় স্থাপিত হয়েছে কষ্টি পাথরের মদন মোহন জিউর। মদন মোহন এর মূর্তিটি পাল আমলের। বেলগাছিতে রাম জীবনের নামে গড়ে ওঠে আখড়া। রাম জীবনের স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে সেখানে সানমঞ্চ ও দোলমঞ্চের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।

৭। নীলকুঠিঃ ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পর নীলকরদের অত্যাচার আরো বৃদ্ধি পায় এবং প্রজা সাধারণ অতিষ্ট হয়ে সংঘবদ্ধভাবে নীলকরদের বিরূদ্ধে রুখে দাড়ায়। শুরু হয় নীলবিদ্রোহ। রাজবাড়ীতে নীলবিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এ সময় বালিয়াকান্দি থানার সোনাপুরের হাশেম আলীর নেতৃত্বে শত শত চাষী নীলকর ও জমিদারদের বিরূদ্ধে নীল বিদ্রোহে অংশ নেয়। বহু স্থানে নীলকুঠি আক্রমণ করে ও কাচারী জ্বালিয়ে দেয়। এ অঞ্চলের বসন্তপুর, বহরপুর, সোনাপুর, বালিয়াকান্দি, নাড়ুয়া, মৃগী, মদাপুর, সংগ্রামপুর, পাংশার নীলচাষীরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। ফলে ১৮৬০ সালে বৃটিশ সরকার নীল কমিশন বসান এবং নীল চাষ স্বেচ্ছাধীন ঘোষণা করেন। ধীরে ধীরে কৃত্রিম নীল উদ্ভাবিত হয় এবং প্রাকৃতিক নীল চাষ বন্ধ হয়ে যায়।

৮। মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্রঃ বিষাদ সিন্ধু খ্যাত মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি বিজড়িত পৈত্রিক নিবাস পদমদীতে মীর মশাররফ হোসেন ও তার স্ত্রীর সমাধিকে ঘিরে ১৯৯৯ সালে তৈরী করা হয় মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি কেন্দ্র। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন দুই কোটি তিপান্ন লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা ব্যয়ে দুই একর জমির উপর স্মৃতি কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয় । নির্মিত এই স্মৃতি কেন্দ্রে একটি পাঠাগার, একটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত অতিথি কক্ষ, সভা কক্ষ, মিউজিয়াম, ডাইনিং রুম প্রভৃতি তৈরী করা হয়েছে। মীরের আবক্ষ মূর্তি যে কোন দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ স্মৃতি কেন্দ্রে মীর ভক্তদের পাশাপাশি শীত মৌসুমে প্রচুর পর্যটকের ভীড় জমে।

৯। দৌলতদিয়া ঘাটঃ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, বরিশাল পদ্মা নদী দ্বারা বিভক্ত। ঢাকা হতে দক্ষিণাঞ্চলে এসব জেলায় পৌছাতে হলে দৌলতদিয়া ঘাট অতিক্রম করা অপরিহার্য। ব্রিটিশ ভারতে গোয়ালন্দ বাংলার পশ্চিম আর পূর্বের সেতু বন্ধন হিসেবে বাংলার দ্বার নামে পরিচিত ছিল। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকার সেতুবন্ধন হিসেবে দৌলতদিয়া ঘাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এ ঘাট পার হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করে।




কোন জেলা কিসের জন্য বিখ্যাত জানেন কি ?

 

বাংলাদেশ! নিজ দেশে বসবাস করলেও অনেকেই জানে না বাংলাদেশের ঐতিহ্য সম্পর্কে। খাবারে-ভ্রমণে ওপার বাংলার কোনে কোনে ছড়িয়ে আছে ইতিহাস৷ পাওয়া যেতে পারে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভালো কিছু ধারনা৷ এখানে জানতে পারবেন কোন জেলা কোন খাবারের জন্য, স্থান ও কিসের জন্য বিখ্যাত।

০১) নাটোর: কাঁচাগোল্লা, বনলতা সেন।

০২) রাজশাহী: আম, রাজশাহী সিল্ক শাড়ী।

০৩) টাঙ্গাইল: চমচম, টাংগাইল শাড়ি।

০৪) দিনাজপুর: লিচু, কাটারিভোগ চাল, চিড়া, পাপড়।

০৫) বগুড়া: দই।

০৬) ঢাকা: বেনারসী শাড়ি, বাকরখানি।

০৭) কুমিল্লা: রসমালাই, খদ্দর (খাদী)।

০৮) চট্রগ্রাম: মেজবান, শুটকি।

০৯) খাগড়াছড়ি: হলুদ।

১০) বরিশাল: আমড়া।

১১) খুলনা: সুন্দরবন, সন্দেশ, নারিকেল, গলদা চিংড়ি।

১২) সিলেট:  কমলালেবু, চা, সাতকড়ার আচার।

১৩) নোয়াখালী: নারকেল নাড়, ম্যাড়া পিঠা।

১৪) রংপুর: তামাক, ইক্ষু।

১৫) গাইবান্ধা: রসমঞ্জরী।

১৬) চাঁপাইনবাবগঞ্জ: আম, শিবগঞ্জের চমচম, কলাইয়ের রুটি।

১৭) পাবনা: ঘি, লুঙ্গি, পাগলাগারদ।

১৮) সিরাজগঞ্জ: পানিতোয়া, ধানসিড়িঁর দই।

১৯) গাজীপুর: কাঁঠাল, পেয়ারা।

২০) ময়মনসিংহ: মুক্তা-গাছার মন্ডা।

২১) কিশোরগঞ্জ: বালিশ মিষ্টি।

২২) জামালপুর: ছানার পোলাও, ছানার পায়েস।

২৩) শেরপুর: ছানার পায়েস, ছানার চপ।

২৪) মুন্সীগঞ্জ: ভাগ্যকুলের মিষ্টি।

২৫) নেত্রকোনা: বালিশ মিষ্টি।

২৬) ফরিদপুর: খেজুরের গুড়।

২৭) রাজবাড়ী: চমচম, খেজুরের গুড়।

২৮) মাদারীপুর: খেজুর গুড়, রসগোল্লা।

২৯) সাতক্ষীরা: সন্দেশ।

৩০) বাগেরহাট: চিংড়ি, ষাটগম্বুজ মসজিদ, সুপারি।

৩১) যশোর: খই, খেজুর গুড়, জামতলার মিষ্টি।

৩২) মাগুরা: রসমালাই।

৩৩) নড়াইল: পেড়ো সন্দেশ, খেজুর গুড়, খেজুর রস।

৩৪) কুষ্টিয়া: তিলের খাজা, কুলফি আইসক্রিম।

৩৫) মেহেরপুর: মিষ্টি সাবিত্রি, রসকদম্ব।

৩৬) চুয়াডাঙ্গা: পান, তামাক, ভুট্টা।

৩৭) ঝালকাঠি: লবন, আটা।

৩৮) ভোলা: নারিকেল, মহিষের দুধের দই।

৩৯) পটুয়াখালী: কুয়াকাটা।

৪০) পিরোজপুর: পেয়ারা, নারিকেল, সুপারি, আমড়া।

৪১) নরসিংদী: সাগর কলা।

৪২) নারায়নগঞ্জ: আইভি আফা।

৪৩) নওগাঁ: চাল, সন্দেশ।

৪৪) মানিকগঞ্জ: খেজুর গুড়।

৪৫) রাঙ্গামাটি: আনারস, কাঠাল, কলা।

৪৬) কক্সবাজার: মিষ্টিপান।

৪৭) বান্দরবান: হিল জুস, তামাক।

৪৮) ফেনী: মহিশের দুধের ঘি, সেগুন কাঠ, খন্ডলেরমিষ্টি।

৪৯) লক্ষীপুর: সুপারি।

৫০) চাঁদপুর: ইলিশ।

৫১) ব্রাহ্মণবাড়িয়া: তালের বড়া, ছানামুখী, রসমালাই।

৫২) মৌলভিবাজার: ম্যানেজার স্টোরের রসগোল্লা।




এক নজরে রাজবাড়ী জেলা

এক নজরে রাজবাড়ী জেলা

 ভৌগলিক 
ভৌগলিক অবসহান পূর্বে মানিকগঞ্জ, পশ্চিমে কুষ্টিয়া, উত্তরে পাবনা, দক্ষিনে ফরিদপুর ও মাগুরা জেলা ।
আয়তন ১১১৮.৮ বর্গ কিঃ মিঃ
নির্বাচনী এলাকা ২ টি
মোট ভোটার সংখ্যা ৭,২৮,৫৫১ জন
পুরুষ

মহিলা

৩,৭০,৫১৭ জন

৩,৫৮,০৩৪ জন

উপজেলা ৫ টি
থানা থানা  ৫ টি ( পুলিশ ফাঁড়ি-৫ টি, হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি-২ টি)
পৌরসভা ৩ টি
ইউনিয়ন ৪২ টি
গ্রাম ১০৩৬ টি
মৌজা ৮৫৮ টি
নদী ৬ টি (পদ্মা, গড়াই, চন্দনা, চত্রা, হড়াই ও কুমার)
বদ্ধ জলমহাল (২০ একরের উর্দ্ধে) ১৭ টি
বদ্ধ জলমহাল (অনূর্ধ ২০ একর) ২১ টি
উন্মুক্ত জলমহাল ২ টি
হাট বাজার ৮৬ টি
মোট জমি ১,১২,৭৭৬ হেক্টর
মোট আবাদী জমি ৭৭,৭৪৭ হেক্টর
ইউনিয়ন ভূমি অফিস ৪৩ টি
পাকা রাস্তা ১,১২৯  কিঃমিঃ
কাঁচা রাস্তা ২,২৩০  কিঃমিঃ
আশ্রয়ন প্রকল্প ৬ টি
আবাসন প্রকল্প ৫ টি (২ টি বাস্তবায়নাধীন)
আদর্শগ্রাম ১০ টি
খেয়াঘাট/নৌকা ঘাট ৯ টি
জনসংখ্যাভিত্তিক
জনসংখ্যা ১০,১৫,৫১৯ জন
পুরুষ ৫,২৪,৬২৪ জন
মহিলা ৪,৯০,৮৯৫ জন
জনসংখ্যার ঘনত্ব ৯০৮
শিশু মৃত্যুর হার ১৮
কৃষি বিষয়ক  
কৃষি পরিবার ১,৮১,৪৩৯ টি
পেশা (কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল) ৭৩ %  কৃষি নির্ভর
মোট জমি ১,১২,৭৭৬ হেক্টর
মোট আবাদী জমি ৭৭,৭৪৭ হেক্টর
ফসলের নিবিড়তা ২৩৫ %
শিক্ষা সংক্রান্ত
মহাবিদ্যালয় ২৫ টি ( সরকারী ২ টি)
মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৪০ টি ( সরকারী ৪ টি )
ভর্তির পর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনের হার ৭৬.১%
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনের পর মাধ্যমিক স্তরে ভর্তির হার ১০০%
 প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪১৯ টি
কমিউনিটি প্রাথমিক  বিদ্যালয় ২১ টি
মাদ্রাসা (সকল) ১২২ টি
কারিগরী ইনস্টিটিউট ৬ টি
সরকারী শিশু সদন ১ টি
সাক্ষরতার হার  ৫২.৩ %
সরকারী গণগ্রন্থাগার ১ টি
পাবলিক লাইব্রেরী ৪ টি
মসজিদ ১২৩৫ টি
মন্দির ১০৫ টি
গীর্জা ৪ টি
স্বাস্থ্য বিষয়ক  
সরকারি হাসপাতাল ১ টি
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩ টি
উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ২৮ টি
পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ২৪ টি
প্রাথমিক শিশু উন্নয়ন সূচক ৬৩.৬
নিরাপদ পানি ব্যবহারকারীর শতকরা পরিমান ১০০%
নিরাপদ ধাত্রী সেবা গ্রহণকারীর শতকরা  পরিমান ৫৪.৯
৫ বছরের নীচে জন্মনিবন্ধনের শতকরা হার ১৭.১%
অন্যান্য  
রাজবাড়ী জেলায় উন্নীত ০১.০৩.১৯৮৪ খ্রিঃ
প্রথম জেলা প্রশাসক জনাব সহিদ উদ্দিন আহমেদ
বর্তমান জেলা প্রশাসক জনাব মো: শওকত আলী
বিদ্যুতায়িত গ্রাম পিডিবি-৪৫৭  টি, 146 (WZPDCL)
রেল স্টেশন ৯ টি চালু, ৬ টি বন্ধ
রেলওয়ে জংশন ২ টি
সার্কিট হাউজ ১ টি
ডাকবাংলো ৪ টি
ডাকঘর ৬৮ টি
টেলিফোন একচেঞ্জ ৪ টি
টেলিফোন গ্রাহক ২২৪৯ টি
টিউবওয়েল গভীর- ৫৫১ টি, অগভীর- ১৭৯৮৪ টি
রাজবাড়ী-ঢাকা দুরত্ব ১২৫ কিঃ মিঃ
রাজবাড়ী-গোয়ালন্দ দুরত্ব ১৭ কিঃ মিঃ
রাজবাড়ী-পাংশা দুরত্ব ২৫ কিঃ মিঃ
রাজবাড়ী-বালিয়াকান্দি দুরত্ব ২৮ কিঃ মিঃ
ব্যাংক ৫৮ টি শাখা
নিবন্ধিত সমবায় সমিতি ৯৯৩ টি
শিল্প কারখানা বৃহৎ- ৩ টি, মাঝারী- ৬ টি, ক্ষুদ্র- ৭১২ টি,

কুটির শিল্প-৫,৫৬৫ টি

পশু হাসপাতাল ৫ টি
এলজিইডি কর্তৃক বাস্তবায়িত গ্রোথ সেন্টার ১৯ টি
দর্শনীয় স্থানঃ ১। কথা সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি

কমপ্লেক্স

২। এক্রোবেটিক সেন্টার

৩। রাজবাড়ী সুইমিং পুল

৪। কুটি পাঁচুরিয়া জমিদার বাড়ী

৫। গোদার বাজার পদ্মা নদীর তীর

৬। রাজবাড়ী উদ্যান বেস

আদিবাসী বুনো, বিন্দি, বেহারা, বাগদী, কোল
দুর্যোগপ্রবণ এলাকা কিনা নদী ভাঙ্গনপ্রবণ এলাকা

 




ফরিদপুর সদরের দর্শনীয় স্থান:

পল্লী কবি জসীম উদদীনের বাড়ী ও কবর স্থানঃ ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর রেলষ্টশনের উত্তরে কুমার নদীর দক্ষিণে গোবিন্দপুর গ্রামে পল্লী কবি জসীম উদদীনের বাড়ী। বাড়ীতে ০৪টি পুরাতন টিনের ঘর চার চালা ঘর রয়েছে। কবির ব্যবহ্নত বিভিন্ন জিনিসপত্রাদি ঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। কবির বিভিন্ন লেখা বাড়ীর চত্ত্বরে প্রদর্শন করা আছে। বাড়ীর পূর্ব ও পশ্চিমে পোর্শিদের বসতবাড়ী এবং দক্ষিণে ছোট একটি পুকুর রয়েছে।
 বাড়ীর উত্তরে কবির কবর স্থান। কবর স্থানের পাশ্বেই পাকা রাস্তা ও কুমার নদী আছে। কবি  ১৪-০৩-১৯৭৬ খ্রিঃ তারিখ হতে  ডালিম গাছের তলে চিরতরে শায়িত রয়েছেন। কবির কবর স্থানটি পাকা উচু করণ এবং চতুর্দিকে গ্লীলের বেষ্টুনী দ্বারা নির্মিত। কবর স্থানে চিরতরে শায়িত আছেন- (১) কবির পিতা-মৌঃ আনছার উদ্দিন মোল্লা  (২) মাতা- আমেনা খাতুন (রাঙ্গা ছোটু) (৩) কবির পত্নী- বেগম মমতাজ জসীম উদ্দিন (৪) বড় ছেলে- কামাল আনোয়ার (হাসু) (৫) বড় ছেলের স্ত্রী- জরীনা (৬) কবির বড় ভাই- আলহাজ্ব মফিজ উদ্দিন মোল্লা (৭) কবির সেজো ভাই- সাঈদ ইদ্দন আহম্মদ মোল্লা  (৮) কবির ছোট ভাই-প্রফেসর নুরুদ্দীন আহম্মদ  (৯) কবির ছোট বোন-নূরুন নাহার (সাজু) (১০) কবির নাতিন- আসিফ (১১) কবির সেজো ভাইয়ের মেয়ে- মোসাঃ হোসনে আরা (দোলন)  (১২) কবির সেজো ভাইয়ের নাতনী-মনজুরা শাহরীন (চাঁদনী)  এবং (১৩) কবির শিশু ভাগিনীর কবর।

দর্শনীয় স্থানের যাবার উপায়ঃ ফরিদপুর বাসষ্ট্যান্ড হতে ২ কিঃ মিঃ দূরে।  রিক্সা/অটোরিক্সা/মাইক্রোবাস যোগে যাওয়া যায়।

দর্শনীয় স্থানের আবাসন ব্যবস্থাঃ দর্শনীয় স্থানের কোন আবাসনের ব্যবস্থা নেই। তবে ফরিদপুর শহরের আবাসনের ব্যবস্থা আছে।
দর্শনীয় স্থানের তত্ত্বাবধায়কের যোগাযোগের ঠিকানাঃ (১)  মোবাইল নং ০১৯১৫৬১০৫১ ও  ০১৯১১৭৫৯৪০৫

নদী গবেষনা ইনষ্টিটিউট:
নদী মাতৃক এ বাংলাদেশ একটি অতি জটিল পলিভরণকৃত ব-দ্বীপ। অসংখ্য বিনুনি শাখা প্রশাখা সহ গঙ্গা-পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও মেঘনা এ ৩টি অন্যতম প্রধান ও সুবৃহৎ আন্তর্জাতিক নদীমালা কর্তৃক বাহিত পলিতে গঠিত এ বাংলাদেশ। এতদবিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার ১৯৪৮ সালে ঢাকার গ্রীণরোডে প্রায় ১২ একর জমির উপর ‘‘হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী’’ নামে একটি গবেষণাগার স্থাপন করে। স্বাধীনতা উত্তরকালে ব্যাপক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৮ সালে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে এবং ‘‘হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী’’ প্রতিষ্ঠানটি ইহার সহিত একীভূত করে। পরবর্তীতে পানি সম্পদ সেক্টরে বহুমুখী গবেষণা কার্যক্রম উত্তরোত্তর বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৯০ সনের ৫৩নং আইন বলে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কে একটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্ব-শাসিত সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন হতে আলাদা করে সরাসরি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে।

পরিচিতি:
• ১৯৮৯ সালে ঢাকা শহর হতে ১৪০ কিলোমিটার দুরে ফরিদপুর শহরের উপকন্ঠে ৮৬ একর জমির উপর এক মনোরম পরিবেশে নদী গবেষণা ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
লাইব্রেরী: নগইতে একটি সমৃদ্ধশালী লাইব্রেরী আছে, যেখানে হাইড্রলিক্স ও জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর দেশী ও বিদেশী ১৩১৩টি বই, ২৫৭৫টি জার্নাল, ৫৮৩৫টি রিপোর্ট, প্রসিডিংস সহ ৩৯১১টি প্রকাশনা আছে।

দর্শনীয় স্থানের যাবার উপায়ঃ ফরিদপুর নতুন বাসষ্ট্যান্ড হতে ১ কিঃ মিঃ দূরে।  রিক্সা/অটোরিক্সা/মাইক্রোবাস যোগে যাওয়া যায়। বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পাশে।

দর্শনীয় স্থানের আবাসন ব্যবস্থাঃ
থাকার জন্য ভিআইপি রেস্ট হাউজ/রেস্ট হাউজ আছে।
যোগযোগ
মহাব্যবস্থাপক
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট
ফরিদপুর-৭৮০০, বাংলাদেশ
ফোন:০৬৩১-৬২৫৬১,৬৩০০৭,৬৩৪৮৮
E-mail : rri@bttb.net.bd
www: rri.gov.bd

জগদ্বন্ধু সুন্দর এর আশ্রমঃ  মহাবতারী শ্রী শ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের আবির্ভাব ২৮শে এপ্রিল ১৮৭১ বাংলা ১২৭৮ সনের ১৬ বৈশাখ রোজ শুক্রবার। মানবলীলা সংবরণ করেন ১৭ সেন্টেম্বর ১৯২১। পৈত্রিক নিবাস ফরিদপুর শহর সংলগ্ন গ্রাম গোবিন্দপুর। পিতা-শ্রী দীননাথ ন্যায়রত্ম, মাতা-শ্রীমতী বামাসুন্দরী দেবী। শ্রী শ্রী প্রভু সুন্দরের আবির্ভাব মুর্শিদাবাদ জেলার ডাহাপাড়ায়। কারণ ডাহাপাড়া পিতার কর্মস্থল ছিল। তিনি শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গন প্রতিষ্ঠা করেন বাংলা আষাঢ় ১৩০৬  রথযাত্রা উৎসরে। শ্রীঅঙ্গনের এ জমি দান করেন ফরিদপুর গোয়ালচামটের শ্রীরামসুন্দর ও শ্রীরাম কুমারমুদি। শ্রীরাম শ্রীঅঙ্গন মহানাম প্রচারের কেন্দ্রে পরিনণত হয়। তাঁর দিব্যজীবন স্থায়িত্ব পঞ্চাশ বছর চার মাস বিশ দিন মাত্র। বিদ্যজীবনের প্রথম আঠারো বৎসর বিদ্যাভাব, দশ বৎসর কর্মজীবন, পরবর্তী ষোল বৎসর আট মাস গম্ভীরালীলা নিমগ্ন থাকেন। মানবলীলা সংবরণের পরবর্তী মাস বাংলা ১৩২৮ সনের ২ রা কার্তিক হতে শ্রীধাম অঙ্গনে দিবস-রজনী অখন্ড মহানাম কীর্তন অব্যাহত রয়েছে। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ -হরিকথা, চন্দ্রপাত, ত্রিকাল ইত্যাদি।

দর্শনীয় স্থানে যাবার উপায়ঃ ফরিদপুর পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন, ফরিদপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে।

দর্শনীয় স্থানের আবাসনের ব্যবস্থাঃ নতুন নির্মাণাধীন মান সম্মত ৩০ কক্ষ বিশিষ্ট ৫ তলা একটি ভক্তবাস আছে। ১৫০ জন ভক্তবাস থাকতে পারেন।
দর্শনীয় স্থানের তত্ত্বাবধায়কের যোগাযোগের ঠিকানাঃ শ্রীমৎ কান্তিবন্ধু ব্রক্ষ্ণচারী, সভাপতি, শ্রী শ্রী প্রভু জগদ্বদ্ধু সুন্দর, গোয়ালচামট, ফরিদপুর। ফোন নং- ০৬৩১-৬৪৫৫২, মোবাইল নং-০১৭১৫-০১৫৮৪১।

রামকৃষ্ণ মিশন সেবাশ্রম, বালিয়াটিঃ
বালিয়াটির জমিদার ও স্থানীয় জনসাধারণের উদ্যোগে ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত। এ প্রতিষ্ঠানের বর্তমান নির্বাহী দায়িত্বে আছেন স্বামী পরিমুক্তানন্দ মহারাজ। প্রতিদিন এখানে পূজাসহ শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ, স্ত্রীমা সারদা দেবী ও স্বামী বিবেকান্দের জন্ম তিথি উৎসব পালিত হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুঃস্থ মানুষের পাশে এ প্রতিষ্ঠান দাড়ায়। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক দর্শনার্থীর সমাগক হয় এখানে।
ফরিদপুর পৌর শেখ রাসেল শিশুপার্ক দীর্ঘদিনের অবহেলিত ফরিদপুর ইতিহাস ঐতিহ্যে শিল্প সাংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ হলেও অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে ছিলো বঞ্চিত। দীর্ঘদিন পর ফরিদপুরের শিশুরা খুজে পেতে যাচ্ছে নির্মল বিনোদন কেন্দ্র পৌর শেখ রাসেল শিশুপার্ক । স্বাধীনতার পর শহরের ঝিলটুলি এলাকায় অল্প সংখ্যক জমিতে একটি শিশূ পার্ক নির্মান হলেও যথাযথ পরিচর্যার অভাবে সেটি বেশিদিন টিকে থাকেনি। ৪০ বছর পার করে এ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত দাবির প্রতি উদ্যোগী হয়ে প্রবাসীকল্যান মন্ত্রী ইঞ্জি: খন্দকার মোশাররফ হোসেন একটি বিশ্বমানের শিশুপার্ক গড়ে তোলেন ।  শহরের গোয়ালচামট এলাকায় ১৪ একর জমির উপর নির্মান হচ্ছে ওয়ান্ডারল্যান্ড ও পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে একটি শিশু পার্ক। এই বিনোদন কেন্দ্রটি দেশের শ্রেষ্ঠ পার্ক নয় বিশ্বমানের একটি বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি । ওয়ান্ডারল্যান্ড এর জেনারেল ম্যানেজার এম কুতুবউদ্দিন পাটোয়ারি জানান, প্রায় দুশো কোটি টাকার উপরে ব্যায় করে এই পাকর্টি নির্মান করা হয়েছে ।



রাজবাড়ী জেলার পরিচিতি

জেলার নামকরণ

রাজবাড়ী যে কোন রাজার বাড়ীর নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। তবে কখন থেকে ও কোন রাজার নামানুসারে রাজবাড়ী নামটি এসেছে তার সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। বাংলার রেল ভ্রমণ পুসত্মকের (এল.এন.মিশ্র প্রকাশিত ইস্ট বেঙ্গল রেলওয়ে ক্যালকাটা ১৯৩৫) একশ নয় পৃষ্ঠায় রাজবাড়ী সম্বন্ধে যে তথ্য পাওয়া যায় তাতে দেখা যায় ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দে নবাব শায়েসত্মাখান ঢাকায় সুবাদার নিযুক্ত হয়ে আসেন। এই সময় এই অঞ্চলে পর্তুগীজ জলদস্যুদের দমনের জন্যে তিনি সংগ্রাম শাহ্কে নাওয়ারা প্রধান করে পাঠান। তিনি বানিবহতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন এবং লালগোলা নামক স্থানে দুর্গ নির্মাণ করেন। এই লালগোলা দুর্গই রাজবাড়ীর কয়েক কিলোমিটার উত্তরে বর্তমান লালগোলা গ্রাম। সংগ্রাম শাহ্ ও তার পরিবার পরবর্তীতে বানিবহের নাওয়ারা চৌধুরী হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। এল.এন.মিশ্র উক্ত পুসত্মকে উল্লেখ করেন রাজা সংগ্রাম শাহের রাজ কারবার বা রাজকাচারী ও প্রধান নিয়ন্ত্রনকারী অফিস বর্তমান রাজবাড়ী এলাকাকে কাগজে কলমে রাজবাড়ী লিখতেন
(লোকমুখে প্রচলিত) । ঐ পুস্তকের শেষের পাতায় রেলওয়ে স্টেশন হিসেবে রাজবাড়ী নামটি লিখিত পাওয়া যায়।
Read More
উল্লেখ্য রাজবাড়ী রেল স্টেশন ১৮৯০ সালে স্থাপিত। ঐতিহাসিক আনন্দনাথ রায় ফরিদপুরের ইতিহাস পুসত্মকে বানিবহের বর্ণনায় লিখেছেন নাওয়ারা চৌধুরীগণ পাঁচথুপি থেকে প্রায় ৩০০ বছর পূর্বে বানিবহ এসে বসবাস শুরু করেন। বানিবহ তখন জনাকীর্ণ স্থান। বিদ্যাবাগিশ পাড়া, আচার্য পাড়া, ভট্টাচার্য পাড়া, শেনহাটিপাড়া, বসুপাড়া, বেনেপাড়া, নুনেপাড়া নিয়ে ছিল বানিবহ এলাকা। নাওয়ারা চৌধুরীগণের বাড়ী স্বদেশীগণের নিকট রাজবাড়ী নামে অভিহিত ছিল।
মতামত্মরে রাজা সূর্য কুমারের নামানুসারে রাজবাড়ীর নামকরণ হয়।  রাজা সূর্য কুমারের পিতামহ প্রভুরাম  নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার রাজকর্মচারী থাকাকালীন কোন কারণে ইংরেজদের বিরাগভাজন হলে পলাশীর যুদ্ধের পর লক্ষীকোল এসে আত্মগোপন করেন। পরে তার পুত্র দ্বিগেন্দ্র প্রসাদ এ অঞ্চলে জমিদারী গড়ে তোলেন। তারই পুত্র রাজা সুর্য কুমার ১৮৮৫ সালে জনহিতকর কাজের জন্য রাজা উপাধি প্রাপ্ত হন। রাজবাড়ী রেল স্টেশন এর নামকরণ করা হয় ১৮৯০ সালে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী জানা যায় রাজবাড়ী রেল স্টেশন এর নামকরণ রাজা সূর্য কুমারের নামানুসারে করার দাবি তোলা হলে বানিবহের জমিদারগণ প্রবল আপত্তি তোলেন। উল্লেখ্য বর্তমানে যে স্থানটিতে রাজবাড়ী রেল স্টেশন অবস্থিত উক্ত জমির মালিকানা ছিল বানিবহের জমিদারদের। তাদের প্রতিবাদের কারনেই স্টেশনের নাম রাজবাড়ীই থেকে যায়। এই সকল বিশ্লেষণ থেকে ধারণা করা হয় রাজবাড়ী নামটি বহু পূর্ব থেকেই প্রচলিত ছিল। এলাকার নাওয়ারা প্রধান, জমিদার, প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তিগণ রাজা বলে অভিহিত হতেন। তবে রাজা সূর্য কুমার ও তার পূর্ব পুরুষগণের লক্ষীকোলের বাড়ীটি লোকমুখে রাজার বাড়ী বলে সমাধিক পরিচিত ছিল। এভাবেই আজকের রাজবাড়ী।
জেলা প্রশাসনের পটভূমি
বর্তমান রাজবাড়ী জেলা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জেলার অমত্মর্ভূক্ত ছিল। ১৭৬৫ সালে ইংরেজরা বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা দেওয়ানী লাভের পর উত্তর পশ্চিম ফরিদপুর (বর্তমান রাজবাড়ী জেলার কিয়দংশ) অঞ্চল রাজশাহীর জমিদারীর অমত্মর্ভূক্ত ছিল। নাটোর রাজার জমিদারী চিহ্ন হিসেবে রাজবাড়ী জেলার বেলগাছিতে রয়েছে সানমঞ্চ, দোলমঞ্চ।
পরবর্তীতে এটি এক সময় যশোর জেলার অংশ ছিল। ১৮১১ সালে ফরিদপুর জেলা সৃষ্টি হলে রাজবাড়ীকে এর অমত্মর্ভূক্ত করা হয়। এছাড়াও রাজবাড়ী জেলার বর্তমান উপজেলাগুলি অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জেলার অমত্মর্ভূক্ত ছিল। পাংশা থানা এক সময় পাবনা জেলার অংশ ছিল। ১৮৫৯ সালে পাংশা ও বালিয়াকান্দি নবগঠিত কুমারখালী মহকুমার অধীনে নেয়া হয়। ১৮৭১ সালে গোয়ালন্দ মহকুমা গঠিত হলে পাংশা ও রাজবাড়ী এই নতুন মহকুমার সঙ্গে যুক্ত হয় এবং রাজবাড়ীতে মহকুমা সদর দফতর স্থাপিত হয়।
১৮০৭ সালে ঢাকা জালালপুরের হেড কোয়ার্টার ফরিদপুরে স্থানামত্মর করা হয় এবং পাংশা থানা ফরিদপুরের অমত্মর্ভূক্ত হয়। ১৮৫০ সালে লর্ড ডালহৌসির সময় ঢাকা জালালপুর ভেঙ্গে ফরিদপুর জেলা গঠিত হলে গোয়ালন্দ তখন ফরিদপুরের অধীনে চলে যায়। তখন পাংশা, বালিয়াকান্দি পাবনা জেলাধীন ছিল।
১৯৮৩ সালে সরকার প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে প্রতিটি থানাকে মান উন্নীত থানায় রূপামত্মরিত করলে রাজবাড়ীকে মান উন্নীত থানা ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৩ সালের ১৮ই জুলাই থেকে সরকার অধ্যাদেশ জারী করে সকল মান উন্নীত থানাকে উপজেলায় রূপামত্মরিত করার ফলে রাজবাড়ী উপজেলা হয়। অবশেষে ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ সকল মহকুমা জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সে থেকে রাজবাড়ী জেলায় রূপামত্মরিত হয়।




রাজবাড়ী জেলার দর্শনীয় স্থান

কল্যাণ দীঘি:
রাজবাড়ি শহর থেকে ছয় মাইল পশ্চিমে নবাবপুর ইউনিয়নে রাজধারপুর গ্রাম। রাজধারপুর গ্রামের পাশে কল্যাণ দীঘি। বিরাট আকারের এই দীঘি বর্তমানে সমতল বিরাট বিলে পরিনত হলেও দীঘির সীমানা নির্ধারন কষ্টকর হয় না। অনেকের মতে দীঘিটি ১৬ খাদা জমি নিয়ে ( ১৬ পাখিতে ১ খাদা এবং ১ পাখি= .২৫ শতাংশ এর অবস্থান ছিল। এত বড় দীঘি এ অঞ্চলে দৃষ্ট হয় না। প্রথমে রাজা সীতারামের খনন কাজ। এক সময়ে এ অঞ্চলে রাজা সীতারামের করতলগত হয়। রাজা সীতারাম তার রাজধানী মুহম্মদপুরে (মাগুরা) অনেক দীঘি খনন করেন। রাম সাগর, সুখ সাগর, কৃষ্ণ সাগর নামক দীঘি তার কীর্তি। কথিত আছে সীতারামের খানজাহান আলীর মত একদল বেলদার সৈন্য ছিল। সংখ্যায় ২০০। তারা যুদ্ধের সময় ছাড়া অন্য সময় জলাশয় খনন করে লোকের জলকষ্ট দূর করত। কথিত আছে সীতারাম প্রতিদিন নব খননকৃত জলাশয়ের জলে স্নান করতেন।বেলগাছিতে রাজা সীতারামের খননকৃত একটি পুকুর আছে। মতান্তরে কল্যাণ দীঘি খান জাহান আলীর কীর্তি। খানজাহান আলী ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দে যশোর, খুলনা জয় করে খলিফাতাবাদ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। খানজাহান আলী ধর্মপ্রচার ও জনহিতকর কাজের জন্য বহু দীঘি খনন করেন। বাগেরহাটের খানজাহান আলী দীঘি তার খননকৃত অন্যতম দীঘি। খানজাহান আলী পরে পীর হিসেবে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে একদল ধর্ম প্রচারককে উত্তর পূর্বাঞ্চলে পাঠান। তার সময়ে এ দীঘি খননকৃত এ ধারনাও বিচিত্র নয়। খানজাহান আলী ও রাজা সীতারামের খনন কাজের কিচু পার্থক্য দেখা যায়। মুহ্ম্মদপুরে রাজা সীতারামের খননকৃত দীঘি সকল বাগেরহাটে খানজাহান আলীর খননকৃত দীঘি সকল থেকে আকার আয়তনে ছোট। কল্যাণ দীঘির আকার আয়তন অনেক বড় যা খানজাহান আলীর খননকৃত দীঘির মত। দীঘি খননের সময়কাল ধরলে দেখা যায় খানজাহান আলীর খননকৃত হলে তা হবে প্রায় ৬০০ শত বৎসর পূর্বে আর সীতারামের খননকৃত হলে হবে ৪০০ শত বছর পূর্বে। যে কোন দীঘি যত্নাভাবে বা অন্য কোন কারনে তা বসে যেতে পারে। কাজেই ৬০০ শত বা ৪০০ শত বছর বিবেচনায় রেখে খানজাহান বা সীতারামের খনন কিনা তা বলা যাবে না। তবে সুলতানি আমলে কল্যাণ দীঘির পাশ্ববর্তী অঞ্চলটি বর্ধিষ্ণু অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পায়। এ অঞ্চলের সেকআরা গ্রামে ষোড়শ শতকের প্রথম দিকে সাহ পাহলোয়ান ও সাহ সাদুল্লার মতো জবরদস্ত পীর আউলিয়ার আগমন ঘটে।জায়গাটি সুলতানি আমলেই মুসলিম প্রাধান্য লাভ করে যার কারনে পীর আউলিয়াদের আগমন ঘটে। ধর্মপ্রচারে উদ্দেশ্যে খানজাহান আলীর খলিফাতাবাদ রাজ্যে জনসাধারণের কল্যাণার্থে এ দীঘি খনন হতে পারে।সূত্র: রাজবাড়ি জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য মু. মতিয়ার রহমান
গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট-
ব্রিটিশ আমলে গোয়ালন্দকে বলা হতো গেটওয়ে অব বেঙ্গল। লঞ্চঘাটটি দৌলতদিয়া ঘাট নামে পরিচিত। এখানে বাংলাদেশের দুটি বড় নদী পদ্মা ও যমুনার মিলন ঘটেছে। পদ্মার ইলিশের জন্যও জায়গাটি বিখ্যাত ছিল সে সময়।
শাহ পাহলেয়ানের মাজার:   ষোড়শ শতকের ধর্ম প্রচারের উদ্দ্যেশ্য সুদুর বাগদাদ থেকে জবরদস্ত পীর শাহ পাহলেয়ান আগমন করেন। বালিয়াকান্দি থানার চন্দনা নদীর তীরে সেকাড়ায় বাসস্থান নির্মান করেন। এ তাপস প্রবরের প্রভাবে ইসলাম প্রচার বৃদ্ধি পায়। তিনি পীর খান জাহান আলীর উত্তর সুরী ছিলেন। সেকাড়া গ্রামে তার কবর বিদ্যমান। শাহ পাহলেয়ান ফানাকি শায়েক স্তরের ছিলেন, তাই তার কবর পূর্ব পশ্চিম লম্বালম্বী  দিতে বলেছিলেন পীরের সম্মানে। কারন তার পীর সেকাড়া থেকে দক্ষিণে অবস্থান করছিলেন।
নলিয়া জোড় বাংলা মন্দিরঃ বালিয়াকান্দি থানার নলিয়া গ্রামে একটি জোড় বাংলা মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এর গঠন বিচিত্র। এ মন্দিরটি ১৭০০ সালে তৈরী বলে পন্ডিতগণ মনে করেন।
মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতিকেন্দ্র-
বিষাদসিন্ধুর রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের সমাধি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের পদমদী গ্রামে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এখানে একটি স্মৃতিকেন্দ্র গড়ে তুলেছে। প্রায় দেড় হাজার গ্রন্থের একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার আছে স্মৃতিকেন্দ্রে। আরো আছে দলিলপত্রের সংগ্রহশালা, ১০০ আসনের সভাকক্ষ এবং একটি বিশ্রামাগার। কেন্দ্রের প্রবেশমুখে মীর সাহেবের একটি আবক্ষ মূর্তিও আছে।

পাচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়ী গ্রামে তৎকালীন জমিদার প্রয়াত ডিকে সাহার বাড়ী  ও মুকুন্দিয়া মঠ।

গোদার বাজার ঘাটঃ
রাজবাড়ি সদর উপজেলা পরিষদ হতে প্রায় ৩.৫ কিমি দূরে পদ্মা নদী সংলগ্ন গোদার বাজার ঘাটটি একটি ঐতিহ্যবাহী আমদানী রপ্তানি ঘাট। রাজবাড়ী সদর উপাজেলার নদী পথে যোগাযোগের একমাত্র আমদানী ঘাট। এই ঘাটের মাধ্যমেই নদী পথে মালামাল আমদানী-রফতানী হয়ে থাকে। প্রতি বৎসর আশ্বিণ মাসে বিশাল নৌকা বাহিচ হয়ে থাকে।  প্রতিদিন বিকালে দর্শনার্থীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়।

 নীলকুঠিঃ ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পর নীলকরদের অত্যাচার আরো বৃদ্ধি পায় এবং প্রজা সাধারণ অতিষ্ট হয়ে সংঘবদ্ধভাবে নীলকরদের বিরূদ্ধে রুখে দাড়ায়। শুরু হয় নীলবিদ্রোহ। রাজবাড়ীতে  নীলবিদ্রোহ সংঘটিত হয়। এ সময় বালিয়াকান্দি থানার সোনাপুরের হাশেম আলীর নেতৃত্বে শত শত চাষী নীলকর ও জমিদারদের বিরূদ্ধে নীল বিদ্রোহে অংশ নেয়। বহু স্থানে নীলকুঠি আক্রমণ করে ও কাচারী জ্বালিয়ে দেয়। এ অঞ্চলের বসন্তপুর, বহরপুর, সোনাপুর, বালিয়াকান্দি, নাড়ুয়া, মৃগী, মদাপুর, সংগ্রামপুর, পাংশার নীলচাষীরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। ফলে ১৮৬০ সালে বৃটিশ সরকার নীল কমিশন বসান এবং নীল চাষ স্বেচ্ছাধীন ঘোষণা করেন। ধীরে ধীরে কৃত্রিম নীল উদ্ভাবিত হয় এবং প্রাকৃতিক নীল চাষ বন্ধ হয়ে যায়।
রথখোলা সানমঞ্চঃ রাজবাড়ী শহর থেকে দুই স্টেশন পশ্চিমে প্রাচীন হড়াই নদীর তীরে বর্তমান পদ্মার কাছাকাছি বেলগাছি একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। বেলগাছির অদূরে হাড়োয়ায় স্থাপিত হয়েছে কষ্টি পাথরের মদন মোহন জিউর। মদন মোহন এর মূর্তিটি পাল আমলের। বেলগাছিতে রাম জীবনের নামে গড়ে ওঠে আখড়া। রাম জীবনের স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে সেখানে সানমঞ্চ ও দোলমঞ্চের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।
 জামাই পাগলের মাজারঃ রাজবাড়ী শহরের ৬ কিঃমিঃ দক্ষিণ-পূর্বে আহলাদিপুর মোড়ে জামাই পাগলের স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে একটি শেড নির্মিত হয়। ১৯৬০ সালের দিকে জামাই পাগল নামে এক ব্যক্তিকে সেখানে নেংটি পরা অবস্থায় শেওড়া গাছের নীচে মজ্জুম অবস্থায় দেখা যেত। তাকে কেহ প্রশ্ন করলে তিনি একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করতেন। তার মৃত্যুর পর উক্ত স্থানে জামাই পাগলের মাজার নামে একটি মাজার গড়ে উঠেছে। লোকশ্রুতি আছে জামাই পাগল এক বোবা মেয়েকে পানিতে চেপে ধরে ছেড়ে দিলে সে কথা বলতে শুরু করে।
দাদ্শী মাজার শরীফঃ রাজবাড়ী শহর থেকে রেল লাইন ধরে পূর্বদিকে ১ কিঃমিঃ দূরে দাদ্শী খোদাই দরগা। ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে কামাল শাহ নামক এক আউলিয়া ষোড়শ শতকে এতদঞ্চলে আগমন করেন।। ১৮৯০ সালে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত রাজবাড়ী রেল লাইন স্থাপনের সময় জঙ্গলের মধ্যে দরগাটির সন্ধান মিলে। সেই হতে দরগাটি এ অঞ্চলের মানুষ খোদাই দরগা নামে কামাল শাহ আউলিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছেন।
 সমাধিনগর মঠ ( অনাদি আশ্রম: বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নে ১৯৪০ সালে স্বামী সমাধী প্রকাশরণ্য এ মঠটি নির্মাণ করেন যার উচ্চতা ৭০ ফুট (গম্বুজসহ), দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ ফুট এবং প্রস্থ ৫০ ফুট। এটি অনাদি আশ্রম বলে পরিচিত। স্বামীজী এ আশ্রমের মাধ্যমে ঐ এলাকার মানুষকে আলোর পথে অগ্রায়ণ করে গেছেন।




প্রাথমিক নিয়োগে নারী কোটা বহাল: জুলাইয়ে বিজ্ঞপ্তি

প্রাথমিকে ৬০ শতাংশ নারী কোটা বহাল রেখেই জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে। তবে জুলাইয়ে ১০ থেকে ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) অতিরিক্ত মহাপরিচালক রমজান আলী ।

তিনি জানান, প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে নতুন নীতিমালা করার যে আলোচনা চলছে, এবারের নিয়োগে সেটি প্রযোজ্য হবে না। আগের নীতিমালার আলোকেই হবে এই নিয়োগ। অর্থাৎ ৬০ শতাংশ নারী কোটা এবং মেয়েদের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা এইচএসসি পাসই থাকছে।

আলী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নতুন নীতিমালাটি এখনও চূড়ান্ত নয়। এটি জনপ্রশাসনে যাবে। সেখান থেকে সচিব কমিটিতে যাবে। এরপর চূড়ান্ত হবে। এতে কিছু সময়তো লাগবেই। কারণ এটা বড় সিদ্ধান্তের বিষয়। ফলে নতুন বিজ্ঞপ্তিতে ওইটা নাও পড়তে পারে।

 

ডিপিই কর্মকর্তা বলেন, ২০১৪ সালের স্থগিত হওয়া ১০ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমও চলছে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা শেষ করা হবে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় রাজস্ব খাতে নতুন করে আরও ১০ থেকে ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। পর্যায়ক্রমে আমরা আরও শিক্ষক নিয়োগ দেব।

পাশাপাশি চার বছর আগে মামলায় আটকে যাওয়া ১০ হাজার জনকে নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানান তিনি।

সারাদেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৪ হাজার ৮২০টি। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। ২০ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য। এসব পদ পূরণে রাজস্ব খাতে নতুন করে ১০ থেকে ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

গত ২২ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দেয় সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে দেড় লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। এরই ধারাবাহিকতায় চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) অনুমোদন দেয় একনেক। এই প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপের শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হবে জুলাই মাসে।




বিকাশের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা পাবে আরও ১৪ লাখ শিক্ষার্থী

মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসার আরও ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তি টিউশন ফির টাকা বিতরণের দায়িত্ব পেল বাংলাদেশের শীর্ষ মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারি প্রতিষ্ঠান বিকাশ। ঝরে পড়া ও বালবিবাহ ঠেকাতে সম্পূর্ণ রাজস্বখাত থেকে ১৮৪টি উপজেলার মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীদের এ টাকা দেয়া হয়। প্রতি ছয়মাস অন্তর একবার এ টাকা বিতরণ করা হয়। উপবৃত্তির সুবিধাভোগী নির্বাচনে আর্থিকভাবে অতি অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তানদের অগ্রাধিকার দেয়া হয়।

এর আগে সফলভাবে বিকাশের মাধ্যমে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় ৫৩ উপজেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের পৌণে তিনলাখ শিক্ষার্থী উপবৃত্তির টাকা সরাসরি তাদের বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে তুলতে পেরেছে। দুই বছর যাবত ওই প্রকল্পের উপবৃত্তির টাকা বিকাশের মাধ্যমে বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হলো সরকারের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত মাধ্যমিক শিক্ষা উপবৃত্তি (২য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতাধীন ১৮৪টি উপজেলার ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা বিতণের দায়িত্ব।

দুই দশকেরও বেশি সময় আগে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হয় উপবৃত্তি। শুরু থেকে এনালগ পদ্ধতিতে ব্যাংকের কর্মকর্তারা একটি নির্দিষ্ট্ দিনে একটি নির্দিষ্ট এলাকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত করিয়ে টাকা বিতরণ করতেন। এতে কোনো কারণে ওইদিন কেউ অনুপস্থিত থাকলে তার টাকা মার যেত। আবার ভুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের নামের উপবৃত্তির কোটি কোটি টাকা উত্তোলন করা আত্মসাত করা হতো। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার মোবাইলে ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গত তিন বছরের বেশি সময় ডাচবাংলা ব্যাংকের রকেট এই প্রকল্পের টাকা বিতরণের দায়িত্ব পালন করে। কিন্তু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে রকেটের সার্ভিস খুবই সমস্যাপূর্ণ এবং হাজার হাজার শিক্ষার্থী টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করেছে। আবার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাচবাংলার এজেন্ট না থাকা, পিনকোড চুরি হয়ে একের টাকা অন্যে নিয়ে নেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়াও প্রায় ৮৮ হাজার শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির ১২ কোটি টাকা শিক্ষার্থীর মাঝে বিতরণ না করে তিন বছর যাবত লুকিয়ে রেখে সুদ খাওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় রকেটের বিরুদ্ধে।

এমন প্রেক্ষাপটে সরকার নির্বিঘ্নে উপবৃত্তির অর্থ বিতরণের দায়িত্ব যোগ্যতম প্রতিষ্ঠানকে দিতে সম্প্রতি উন্মুক্ত টেন্ডার আহ্বান করে। রাষ্ট্রায়াত্ত অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডার হিসেবে বিকাশ যৌথভাবে টেন্ডারে অংশ নেয়। রাষ্ট্রায়াত্ত রুপালী ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে টেন্ডারে অংশ নেয় শিওরক্যাশ, এবং ডাচবাংলার বিকাশ। সর্বনিম্ন দরদাতা বিবেচিত হওয়া বিকাশকে এ উপবৃত্তির টাকা বিতরণের দায়িত্ব দেয়া হয়। এ লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (২৯ মে) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরাধীন “মাধ্যমিক শিক্ষা উপবৃত্তি ২য় পর্যায় প্রকল্পের” সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো: মাহাবুবুর রহমান, মাধ্যমিক উপবৃত্তি প্রকল্পের পরিচালক শরীফ মোর্তজা মামুন, অগ্রণী ব্যাংকের এমডি এবং সিইও মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম, বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর ও চিফ এক্সটার্নাল অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মেজর জেনারেল শেখ মোঃ মনিরুল ইসলাম (অবঃ), অগ্রনী ব্যংকের প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক (আইটি) সফিকুর রহমান সাদিক এবং সহকারি মহাব্যবস্থাপক মো: মোজাম্মেল হকসহ অধিদপ্তরের প্রায় বিশজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

বিকাশের প্রধান নির্বাহী কামাল কাদীর বলেন, দেশজুড়ে বিকাশের প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার এজেন্ট পয়েন্ট রয়েছে- যা প্রতিটি বাড়ি থেকে প্রায় হাটাপথের দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত। বন্ধের দিনে এবং গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকা এসব এজেন্ট পয়েন্ট থেকে উপবৃত্তি প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা যেকোন সময় টাকা ক্যাশ আউট করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিকাশের মাধ্যমে উপবৃত্তির টাকা বিতরণ অনেক সুবিধাজনক, ঝামেলামুক্ত এবং ব্যয় সাশ্রয়ী। উপবৃত্তির সুবিধাভোগীদের টাকা তুলতে ব্যাংকের শাখায় যেতে হবে না। পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস সম্পর্কে ধারণা গড়ে উঠবে।

অগ্রণী ব্যাংকের এমডি এবং সিইও মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন একটা সময় ছিল যখন আমাদের অনেকেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিরোধীতা করতাম কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। সারাদেশে বিকাশের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।  সেরা সার্ভিস।




প্রাথমিকে আরও ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ জুন মাসেই

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন করে আরও ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আগামী জুনেই এ সংক্রান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৪ হাজার ৮২০টি। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি। এসব শূন্য পদ পূরণে রাজস্ব খাতে নতুন করে ১২ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। ২০১৪ সালের স্থগিত নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা ১ মে মাসে শেষ করা হবে। এরপর জুন মাসে নতুন করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

জানা গেছে, চলমান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে। নতুন করে আরও ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শূন্য পদ পূরণ করা হবে। নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জুনের শেষের দিকে প্রকাশ করা হবে। সম্প্রতি ডিপিই এক সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অধিদফতর সূত্র আরও জানায়, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৪) আওতায় রাজস্ব খাতে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, অতিরিক্ত ক্লাসরুম তৈরি, প্রাথমিক পর্যায়ের স্কুলগুলো অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করা হবে। এসব বিদ্যালয়ে শূন্য শিক্ষক পদ, প্রয়োজন অনুযায়ী সৃষ্ট পদ, প্রাক-প্রাথমিক স্তর মিলিয়ে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেড় লাখের বেশি শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।